রবিবার, ২৯ মে, ২০১৬

শ্যামল কান্তি : মালাউন থেকে শিক্ষক হয়ে উঠার কাহিনী

নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বর্বরতম নিপীড়নের শিকার হয়েছেন স্কুল কমিটি ও স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমান দ্বারা। তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা গুজব রটিয়ে একদল লোক তাকে শারীরিকভাবে আঘাত ও অপমানিত করেছেন। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ধর্ম অবমাননা করেছেন কিনা প্রথম ক’দিন এ নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তাই সবাই ধরে নিয়েছে, নিশ্চয়ই ওই মালাউন ব্যাটা আমাদের আল্লাহ রসুলকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। কাজেই তাকে যা করা হয়েছে, তার অপরাধের তুলনায় তা কিছুই না।

তারপর সাংবাদিকেরা তাদের ক্যামারায় খবর নিয়ে এলেন যে, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কোনো ধরণের মন্তব্য করেননি। যেই ছাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অপমানিত করা হয়েছিলো, সেই ছাত্রই পরবর্তীতে ক্যামেরার সামনে বলেছে, “স্যার ধর্ম নিয়ে কিছু বলেননি”। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে বলেছেন, এলাকাবাসীও এরকম কিছুর প্রমাণ পাননি বলে জানিয়েছেন।

বিষয়টির সাথে নাস্তিকতা জাতীয় ভয়ংকর কোনো কিছুর সম্পর্ক না থাকায় মডারেট মুসলমানগণ ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ নিজেদের কানে ধরা ছবি দিয়ে শ্যামল কান্তির এমন দুরবস্থায় তার পাশে আছেন বলে জানিয়েছেন, তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু হলো, সেলিম ওসমান নামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ট্যাগ থাকায়, অনেকেই সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবী করতেই শ্যামল কান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হুজুগে বাঙালি, যারা ১২ ঘন্টা আগে মালাউন শ্যামল কান্তির ফাঁসির দাবী করছিলো, তারাই আবার ঢেউয়ের তালে তাল মিলিয়ে শ্যামল কান্তির পক্ষ নিয়েছেন। এভাবেই মালাউনের বাচ্চা থেকে ধীরে ধীরে শ্যামল কান্তি হয়ে গেলেন, আমাদের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত।

যেহেতু জনগণ শ্যামল কান্তির পক্ষে নিয়েছেন, কাজেই সরকারের মন্ত্রী এমপিরাও ধীরে ধীরে এ বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো। এটা তো তার প্রাপ্য। কিন্তু অপরাধীদের প্রাপ্যটার তবে কী হবে?

একবার ভাবুন, যদি প্রমাণ করা না যেতো যে শ্যামল কান্তি আসলে ধর্ম নিয়ে কিছুই বলেননি, কিংবা যদি প্রমাণ হতো যে, শ্যামল কান্তি আসলেই ধর্ম নিয়ে কিছু বলেছেন, তবে এইসব প্রতিবাদী কন্ঠরা কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকতেন। আর বেচারা শ্যামল কান্তির পরিণতি হতো রাজীব, অভিজিৎদের মতো। প্রতিবাদের তো প্রশ্নই উঠে না, বরং অনেকে সুর তুলতেন, ‘ধর্ম নিয়ে কটুক্তি বরদাস্ত করা হবে না’।

শ্যামল কান্তির ইস্যু নিয়ে যখন আমরা প্রতিবাদ করছি, ঠিক তখন নিবন্ধন পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলেন একজন শিক্ষিকা। যেহেতু হুজুগে বাঙালি তখন অন্য ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত তাই এইদিকে নজর দেয়ার সময় হয়নি। আর কয়েকদিন আগেই তো তনু ধর্ষণের ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ হলো, এখন নতুন কিছু নিয়ে প্রতিবাদ করা যাক, ধর্ষণের ইস্যু তো পুরাতন।

এরপর ঢাকার ধামরাইয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে টয়লেট থেকে বের করে মারধর ও লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতির বিরুদ্ধে। না, এই বিষয়েও কারও প্রতিবাদ নেই, কাজেই সরকারের কারও এই নিয়ে মুখ খোলার কিংবা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন হয়নি।

শ্যামল কান্তি ইস্যুটা থেকে ফায়দা লুটতে এখন আবার হেফাজতে ইসলাম মাঠে নেমেছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত নাটক কোনদিকে মোড় নেয়।

কিছুদিন আগে তনু হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে দেশ উত্তাল ছিলো। ময়না তদন্তে প্রথমে ধর্ষণের কোনো আলামতই পাওয়া গেলো না। পরে প্রতিবাদের অবস্থা বুঝে, ময়নাতদন্ত পাল্টে গেলো। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে তনুর কাপড়ে দুইজনের বীর্য পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

এসব ঘটনাগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে গিয়ে কিছু বিষয় মাথায় এসেছে। প্রথমে যেকোনো অন্যায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়। এরপর যদি দেখা যায়, ওই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতি সোচ্চার, তখন সেটিকে অন্যায় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং সরকার-প্রশাসন এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

২০১৩ সালে কাদেরমোল্লাকে যাবজ্জীবন দেয়ার কথা কি মনে পড়ে আপনাদের? জনগণ এই রায়ের বিরুদ্ধে গেলে পরবর্তীতে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ হয়, দণ্ড কার্যকরও হয়। যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে যদি জনগণ এক না হতো, তবে কিন্তু এসব ভয়ংকর অপরাধীদের কারও ফাঁসি হতো না।

দেখা যাচ্ছে, যেই ইস্যুতে জনগণ সোচ্চার হয়, প্রতিবাদী হয়, সেই ইস্যুতে সরকার কোনো একটা ব্যবস্থা নেয়। এখনও পর্যন্ত যেই ইস্যুতে জনগণের কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি, তা হলো নাস্তিক মুক্তমনাদের হত্যা। কাজেই এগুলো এখনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই রয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, জনগণ যদি নাস্তিক হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তবে নাস্তিক হত্যার বিচার করার ব্যাপারেও সরকার পদক্ষেপ নেবে।

ইসলাম ধর্মে নাস্তিক হত্যার নির্দেশ দেয়া আছে, এরকম রেফারেন্স হাজির করলে বলা হয়, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম ধর্মে এসব বলা হয়নি, এসব সহিহ অনুবাদ নয়, ইসলাম হত্যাকে সমর্থন করে না’। ইসলাম যদি হত্যাকে সমর্থন না করে, তবে একের পর এক নাস্তিক প্রগতিশীলদের হত্যায় শান্তিকামীদের কোনো প্রতিবাদ দেখি না কেন? ইসলাম যদি এতোই শান্তির ধর্ম হয়, তবে ‘নাস্তিক হত্যা ওয়াজিব হয়ে গেছে’ নাস্তিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দাতাদের বিরুদ্ধে কেন ইসলাম অবমাননার অভিযোগ উঠে না? কেন প্রকাশ্যে এসব হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করেন না? এই কেন-এর উত্তরটা নিজেই বুঝে নিন, আবার রেফারেন্স দিতে পারবো না।

এখন আবার নতুন নাটক, ছয় জঙ্গিকে ধরতে পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু একের পর এক মুক্তমনা হত্যার পর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উন্নত দেশগুলো, তাই সরকার এটি নিয়ে কিছুটা চাপের মধ্যেই আছে বলা যায়। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে এখন সরকার জানিয়ে দিলো যে, আমরা নাস্তিক হত্যার বিষয়গুলো এতোটাই সিরিয়াসলি নিচ্ছি যে, জঙ্গি সনাক্ত করে এখন খুঁজে বের করার জন্য মরিয়া হয়ে লাখ টাকার পুরষ্কার পর্যন্ত ঘোষণা করে ফেলেছি। আর কী চাও তোমরা?

আর যেসব জঙ্গিকে হাতে নাতে ধরা হলো, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হলো? বাবু হত্যায় দুই জঙ্গিকে ধরে দিয়েছিলো ভিন্ন লিঙ্গের দুইজন মানুষ। ওই দুই জঙ্গির অপরাধীর কোনো শাস্তি না হলেও খুনি ধরিয়ে দেয়ার অপরাধে সেই ভিন্ন লিঙ্গের দুজনকে হুমকির মুখে ঢাকা ছাড়তে হয়েছে। অভিজিতের খুনীদের নাকি চিহ্নিত করা হয়েছে, নজরদারিতে রয়েছে, এরকম খবর শুনে আসছিলাম। এরপর খবর এলো, খুনীরা বিদেশে পালিয়ে গেছে।

হয়তো শিক্ষক লাঞ্ছনার ইস্যু চাপা দিতেই এই জঙ্গি শনাক্ত ও পুরস্কারের নাটক শুরু হলো। এতে ইস্যু চাপা পরলে তো খুব ভালো। নয়তো একটা নাস্তিক কিংবা প্রগতিশীল কাউকে বলি করা হবে। পুরাতন ইস্যু পাল্টে নতুন ইস্যু হেডলাইনে আসতে বাধ্য।

জুম্মাবারের আপডেট, কুষ্টিয়া সদরের বটতৈলে সানোয়ার রহমান নামে এক হোমিও চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। জানা যায়, নিহত ‌‌সানাউর রহমান একজন বাউল ভক্ত ছিলেন। একসময় বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একটা হোমিও দোকান দিয়েছিলেন যেখানে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দেয়া হতো। তার দোকানে সম্ভবত প্রগতিশীল ও বাউলতত্বে বিশ্বাসী লোকজনের আড্ডা হতো। দেখা যাক, এই ইস্যু নিয়ে কী ধরনের নাটক হয়।

এভাবেই ইস্যু যায়, ইস্যু আসে। এসব ইস্যুর স্রোতেই আমরা হারিয়েছি রাজীব, অভিজিৎ, বাবু, অনন্ত, নীল, দীপন, নাজিমউদ্দীন, রেজাউল করিম, জুলহাজ, তনয়, সানোয়ারদের….

পুরুষের আত্মত্যাগ গৌরবের, নারীর আত্মত্যাগ লজ্জার!

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের গৌরবের ইতিহাস। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের বীর সন্তান। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক লেখা আছে অনলাইনে। আমি সেসব আবার নতুন করে বলতে চাই না। আজ আমার লেখার বিষয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উপেক্ষিত একটি অংশ।

বীরাঙ্গনা। যারা একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদরদের দ্বারা নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে গর্ববোধ করেন। নিশ্চয়ই এটি গর্বের বিষয়। কিন্তু জানেন কি বীরাঙ্গনা পরিচয়টি আমাদের সমাজে, লজ্জা ও অপমানের। যুদ্ধ প্রক্রিয়ার কৌশলগত দিক হিসেবে নির্যাতিত হয়েছেন এইসব বীর নারীরা, নিঃসন্দেহে তারা মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু এই বীর নারীরা কী পেয়েছে স্বাধীন দেশটির কাছ থেকে ঘৃণা আর অপমান ছাড়া?

যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হল, এক বুক কষ্ট-দুঃখ-যন্ত্রণা নিয়ে বীরাঙ্গনারাও তাদের আপনজনদের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু হায়! ধর্ষকেরা নাকি তার ইজ্জত নষ্ট করে ফেলেছে, তার আর ইজ্জত নেই, কাজেই স্বামী তাকে ঘরে তুলবে না। হ্যাঁ, বেশির ভাগ নারীর সাথে এটিই ঘটেছিল। তারা বাড়ি হারা, স্বামী হারা, সন্তান হারা হয়েছেন এই স্বাধীন দেশে। কতটা নির্মম, কতটা বর্বর জাতি আমরা, ভাবতে পারেন?

বঙ্গবন্ধু এসকল বীর নারীদের জন্য ‘নারী পুনর্বাসন’ অফিস খুলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেসবও বন্ধ হয়ে গেল। তাদের অনেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করেছিলেন। সেখানেও অনেককে কুকুরের মত তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের সম্পর্কে এলাকায় কথা বলতে গেলেই, মুক্তিযুদ্ধে তাদেরকে পাক বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে কয়জন কী করেছে, সেসব কথা আগে উঠে আসে। এসবই তাদের পরিচয়। তাদের জীবন ঠিক ওই সময়টাতেই থেমে আছে।

এক বীরাঙ্গনা মায়ের মেয়ের বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল তার বীরাঙ্গনা পরিচয়ের কারণে। অন্যদিকে আমাদের পরিবারে কেউ মুক্তিযোদ্ধা থাকলে সেই সার্টিফিকেটের সুবিধা নিয়ে সেরা স্কুল-কলেজে ভর্তি হই। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরী নিই। অন্যদিকে বীরাঙ্গনার সন্তানের, বীরাঙ্গনা কোটায় বিয়ে ভেঙে যায়। বেগম খালেদা জিয়া, হোক তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, আমরা কিন্তু ৭১এ তাকে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার ধর্ষণ করাকে মজার কোন বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে মুখ টিপে হাসি।

একাত্তরে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় আচরণ তাদেরকে যতটা না কষ্ট দেয়, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি কষ্ট দেয়, যুদ্ধের পর পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া নির্যাতন,বঞ্চনা ও উদাসীনতা। সমগ্র জীবন তারা পার করে দিলেন, এক বুক বেদনা নিয়ে। সমাজের বাঁকা চোখ তাদেরকে বাধ্য করছে, মানবেতর জীবনযাপন করতে। যেন বীরাঙ্গনা হওয়া অপরাধ। দেশের জন্য পুরুষের আত্মত্যাগ মহান হলেও, নারীর আত্মত্যাগ লজ্জার।
একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামে শোক গাঁথার অন্যতম অধ্যায় বীরাঙ্গনা। যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সহ সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তরা বিভিন্ন সময় আলোচনায় এলেও সবসময় উপেক্ষিত থেকে গেছেন বীরাঙ্গনারা। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বইগুলোতেও এসকল বীর নারীদের আত্মত্যাগের কথা খুব বেশি পাওয়া যায় না। ব্লগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা হয়। বীরাঙ্গনাদের ব্যাপারে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু একটি বাক্য থাকে, ‘২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হানি’ দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হানি মোটেই ঘটে নি। সম্ভ্রম যোনির ভেতরে থাকে না।

দুই লক্ষ মা-বোনের সাথে কী ঘটেছিল ৭১ এ, সেসব বলে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনীকে আমরা আরও লোমহর্ষক ভাবে উপস্থাপন করি, পাক হানাদারদের নির্মমতাকে বুঝানোর জন্য ধর্ষণের কথা তুলে ধরি, কিন্তু যুদ্ধের পর তাদের সাথে কী ধরণের নির্মম আচরণ করেছি নিজেরা, এজন্য কি আমাদেরকে কেউ নির্মম- অকৃতজ্ঞ - বর্বর জাতি বললে, খুব বেশি ভুল বলা হবে?

বীরাঙ্গনার সংখ্যা নিয়েও আছে দ্বন্দ্ব। তখনকার সরকারি জরিপ মতে বীরাঙ্গনাদের সংখ্যা ২ লাখ। সেই সময়ের নির্যাতিত নারীদের গর্ভপাতের চিকিৎসার কাজে বাংলাদেশে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ডাক্তার জেফ্রি ডেভিস। নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও গ্রাম প্রতি গর্ভপাতের গড় হার হিসেব করে তিনি প্রমাণ করেছেন, এই সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের বেশি, যাদের বেশির ভাগেরই বয়স ছিল ২০ বছরের নিচে।

সাড়ে চার লাখ বীরাঙ্গনাদের অনেকেই হয়তো আজ বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন, তারা আজ মুখ লুকিয়ে থাকেন, বীরাঙ্গনা পরিচয় কাউকে জানাতে চান না। কারণ পাকিস্তানিদের বর্বরতা তাঁরা দেখেছেন, কিন্তু বর্বরতার দিক থেকে বাঙ্গালী জাতিও যে কোন অংশ কম নয়, সেটাও তাঁরা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৪০ বছরের বেশি সময় পর আওয়ামীলীগ সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে প্রাথমিক ভাবে ৪১ জন নারী মুক্তিযোদ্ধার নাম গ্যাজেট হিসেবে প্রকাশ করে, আরও ৫০০ জনের একটি তালিকা তদন্তাধীন রয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত সকল বীর নারীদের নাম প্রকাশ করে তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা সাথে তাদের সন্তানদেরকেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা।

স্ব ভূমির জন্য আত্মত্যাগ লজ্জার নয়, গৌরবের। ইতিহাসে উপেক্ষিত এসব নারী মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি হতে পারে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনন্য দলিল।

এখন এসবের মূল নিয়ে কথা বলা যাক। কিছুদিন আগে সাবিরা নামের এক নারী মডেল আত্মহত্যা করেছে ঠিক একই কারণে। প্রভা-রাজীবের ঘটনা তো আমরা জানি, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সবাই ছি ছি করেছে প্রভাকে, রাজীবকে নয়। হ্যাপি-রুবেলের কাহিনীতে রুবেল কিন্তু আমাদের হিরোই থেকে গেছে, নষ্ট হয়েছে হ্যাপি।

ধর্ষণ সেটা মুক্তিযুদ্ধে করা হোক কিংবা স্বাধীন দেশে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ধর্ষিতা মানেই, ইজ্জত-সম্ভ্রম নষ্ট হওয়া এক নারী। পুরুষের ইজ্জত-সম্ভ্রম তাদের কর্মে, চিন্তায়, জ্ঞানে। নারীর ইজ্জতটা তবে কোথায় থাকে? কোন অসভ্য পুরুষের নষ্টামির ফল কেন একটি মেয়েকে বয়ে বেড়াতে হবে? দুজন মানুষের স্বেচ্ছায় যৌন মিলনে পুরুষের কিছু না হলেও নারীর ইজ্জত যায় কেন? কীভাবে?

এইসব প্রশ্ন দূর হয়ে যাবে, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, নারীকে মানুষ ভাবতে পারলে। কোন অংশে কম মানুষ কিংবা দুর্বল প্রজাতির কিছু ভাবলে এসব সমস্যা চলতেই থাকবে। কিন্তু পুরুষের চিন্তার দৈন্যতার কারণে নারীকে আজও তারা মানুষ ভাবতে পারে না। আর কতকাল ‘আমরাও মানুষ’ ‘আমরাও পারি’ ‘নারী মায়ের জাত, মায়ের জাতকে সম্মান করো’ ইত্যাদি ন্যাকা ন্যাকা কথা বলে সম্মান ভিক্ষা চলবে? পুরুষের চেতন ফেরাতে হলে আঘাতের বিপরীতে পাল্টা আঘাতের বিকল্প কিছু আছে কি?

শুক্রবার, ১৩ মে, ২০১৬

ভেদাভেদের মাধ্যম রেজাল্ট!

ক্লাস টেনের কেমিস্ট্রি ক্লাস চলছে। মোটু পাতলু দুই বন্ধু সদ্য নাইন পাশ করে ক্লাস টেনে উত্তীর্ন হলো। কেমিস্ট্রি স্যার প্রায় দুই সপ্তাহ পড়িয়ে একটি অধ্যায় শেষ করেছেন। এবার পড়া নেয়ার পালা। স্যার সামনের কয়েকজনকে প্রশ্ন করে সঠিক উত্তর না পেয়ে হতাশ হয়ে সারা ক্লাসকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘এতোদিন ধরে আমি কী পড়িয়েছি তোমাদের’ বলে স্যার মাইক্রোফোনটা পড়া না পারা একজন স্টুডেন্টের কাছে দিয়ে বললেন, ‘নাও স্যার, এটা দিয়ে আমাকে মারো, আমি তোমাদেরকে পড়া বোঝাতে ব্যর্থ’। ওই স্টুডেন্ট লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখলো। এরপর স্যার একে একে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে চলেছেন, আর যারা পারছে না তাদেরকে মাইক্রোফোন হাতে দিয়ে বলছেন, ‘আমাকে মারো’ আর স্টুডেন্টরা লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। মোটু পাতলুর ব্যাপারটা খুব পছন্দ হয়েছে, ওরা ঝটপট একটা প্ল্যান করে নিলো। এরপর স্যার একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে বললেন, কে পারবে? ওদের আশেপাশের সব স্টুডেন্টকে মোটু শিখিয়ে দিলো যাতে সবাই পাতলুর নাম নেয়। তাই হলো, সবাই পতলুর নাম বললো। স্যার সাবাসি দিতে দিতে পাতলুর দিকে মাইক্রোফোন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। সামনের বেঞ্চের কয়েকজন বলে উঠলো, ‘স্যার ও পড়া পারবে না’। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘ও পড়া পারবে না, তুমি কীভাবে জানো? নিজে পারো না সেটা বলো’। স্টুডেন্টটি বললো, ‘স্যার, আপনি পড়া না পারলে মাইক্রোফোন দিয়ে আপনাকে মারতে বলেন, তাই ওরা আপনাকে পড়া জিজ্ঞেস করতে বলছে, যাতে ও পড়া না পারলে, মাইক্রোফোন দিয়ে আপনাকে…..’। স্যার থামিয়ে দিলেন তাকে। স্তম্ভিত হয়ে গেলেন, এরকম কিছু হতে পারে স্যারের কল্পনাতেও আসেনি। এবার স্যার মোটু পাতলু গ্যাংয়ের দিকে তাকালেন, ওদের চোখ-মুখের ভাষা পড়েই বুঝে ফেললেন ওদের উদ্দেশ্যটা আসলে কী ছিলো। গম্ভীর মুখ করে স্যার বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না, দুষ্টু স্টুডেন্টদের কাণ্ড দেখে হেসে ফেললেন। ক্লাসটা শেষ হলেই মোটু-পাতলু গ্যাং সামনের বেঞ্চের স্টুডেন্টদের উত্তম মধ্যম দিয়ে গেলো, ওদের কারণেই স্যারকে মারার প্ল্যানটা তাদের নষ্ট হয়ে গেলো। এই হলো ক্লাসে সবচেয়ে ফাজিল মোটু,পাতলু ও তাদের গ্যাং। স্কুল তাদের খুব প্রিয়। কারণ স্কুলে তারা কেউ লেখাপড়া করে না; আড্ডা, ফাজলামো করেই কাটায়।

এবার বলি পাতলুর কথা। পাতলুর পড়ালেখা বলতে মূলত সেটা বাসার স্যারের কাছেই। স্যার হোমওয়ার্ক দেয়, পরদিন জিজ্ঞেস করে, ‘হোম ওয়ার্ক করেছো?’ পাতলু প্রতিদিন হোমওয়ার্ক না করার নিত্যনতুন অজুহাত দেখায়। অজুহাতের ঝুড়ি যখন প্রায় শেষের দিকে, তখন একদিন সে স্যারকে বললো, ‘আচ্ছা স্যার, এটা তো আমারই হোম, আমি তো এখনও চাইলে কালকের পড়াগুলো এখানেই শেষ করতে পারি, এটা তো হোমওয়ার্কের মধ্যেই পরে’। স্যার বেচারা আর কী করবেন। বললেন, ‘ঠিকই তো, এটা তো তোমারই হোম, তোমার হোমে যখনই করো, সেটাকে তো হোমওয়ার্কই বলতে হবে, ঠিক আছে, করো’।
স্কুলে রেজাল্টের পর তার বাবা-মা যখন হিসেব দিতে শুরু করে যে, তার পিছনে কত টাকা খরচ করা হয়েছে, আর সে কিনা এই রেজাল্ট করল? তখন পাতলুর উত্তর, ‘আমি কি বলেছিলাম নাকি আমার জন্য এত টাকা খরচ করতে? তোমাদের ভালো রেজাল্টের প্রতি লোভ তাই করেছো, আমার তো ওসব লোভ নেই। তোমার লোভ করেছ, লোভে পরে লস খেলে, আমি কী করব?’

লেখাপড়া-রেজাল্ট ব্যাপারগুলোকে তাদের বাবা মায়েরা যতোটা সিরিয়াসলি নেন, তারা ততোটাই অবেহলা করে।  এসএসসির আগে মোটু পাতলু একটা কোচিংয়ে ভর্তি হয়। সেখানে প্রতিদিন দুইটা সাবজেক্টের পরীক্ষা নেয়া হয়। আর পাতলুর বাবা প্রতিটা পরীক্ষার খাতা নিয়ে গবেষণা করেন, প্রতিটা খাতার নাম্বার টুকে রাখেন, কোনটাতে কেমন উন্নতি-অবনতি হচ্ছে, অবনতি কেন হলো, সেসব নিয়ে বাসার স্যারদের নিয়ে মিটিং বসান। কোনো কারণে একটা পরীক্ষা দিতে না পারলে পরদিন কোচিং থেকে প্রশ্ন নিয়ে এসে বাবা বাসায় পরীক্ষা নেন। আর এদিকে পাতলু কোচিংয়ে নিয়মিত পরীক্ষা দেয় না। সংগঠন করে বেড়ায়, এছাড়া পড়ালেখার চাপে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায়ই এদিক সেদিক ঘুরতে চলে যায় তারা। কিন্তু পাতলুর বাসায় তো খাতা দেখাতে হবে। তাই কোচিংয়ের সিল দেয়া কিছু খাতা যোগাড় করে সেসবে নিজে লিখে, নিজেই নাম্বার বসিয়ে পাতলু তার বাবাকে সন্তুষ্ট করে। 

কিন্তু এরপর কোচিংয়ে নিয়ম করা হলো এক সপ্তাহের সব পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ালে ঝুলিয়ে দেয়া হবে। পাতলু পরলো মহাবিপদে। এখন থেকে তো সব পরীক্ষা সিরিয়াসলি দিতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষা দেয়া শুরু করলো তারা। কিন্তু পরীক্ষায় এতো কম সময় দেয়া হয় যে, টাইমের মধ্যে লেখা শেষ করা সম্ভব হয় না। তাই মোটু অবজেক্টিভ দাগিয়ে পাতলুকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তার শিট দিয়ে দেয়, আর পাতলু সৃজনশীল লেখে। মোটুর বাসায় পরীক্ষা নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নাই। কোচিংয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সিসিটিভির দিকে কড়া নজর রাখেন একজন স্যার, আর গার্ড তো আছেই। এভাবে রোবোটিক সিস্টেমে পরীক্ষা দিতে দিতে একপর্যায়ে তারা বিরক্ত হয়ে গেলো। তারপর তারা কোচিংয়ের কয়েকজনকে ধরলো। পাতলুর বায়না, ‘তোরা আমার নামে পরীক্ষা দিবি’। মাঝেমাঝে ওরা কোচিংয়ে না গিয়ে, প্রক্সি পরীক্ষার্থীকে ফোনে সেটা জানিয়ে দিয়ে ওরা ঘুরতে চলে যায়।  

কোচিংয়ের স্যারেরা হঠাৎ পাতলুকে বিশেষ নজরে রাখা শুরু করলেন। পাতলুর খাতাটা সবার আগে চেক করা শুরু করলেন। সে কতো পেয়েছে, কেন খারাপ করলো, এসব নিয়ে আগে তাদের এতো মাথাব্যাথা ছিলো না। মোটু পাতলু বুঝতে পারলো, সবই পাতলুর পিতার কর্ম। পাতলুর অজান্তে বাবা কোচিংয়ে গিয়ে স্যারদের সঙ্গে তার ব্যাপারে কথা বলেন, খাতা দেখেন। এমনিতেই যথেষ্ট যন্ত্রণায় ছিলো, এখন আবার নতুন বিপদ শুরু হলো। মোটু পাতলু গ্যাংয়ের আরেক সদস্যকে কোচিংয়ে আনা নেয়ার জন্য একজন মহিলা নিয়োজিত আছেন। যতোক্ষণ কোচিং চলে, ততোক্ষন উনি বাইরেই বসে থাকতেন। একদিন ওই মহিলাকে পাতলুর বাবার একটা ছবি দেখিয়ে পাতলু বললো, ‘এই লোকটা আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে ফলো করছে। এই লোকটাকে কোচিংয়ের আশেপাশে দেখলে জানাবেন, উনি কোচিংয়ে কার সঙ্গে কথা বলে, কী করে সব খেয়াল করবেন’। এরপর থেকে পাতলুর বাবা কখন কোচিংয়ে আসেন, কোন স্যারের সঙ্গে কথা বলেন, সব খবর পাতলুর কাছে চলে আসে। একদিন বাবাকে গিয়ে পাতলু বললো, ‘তুমি আজকে কোচিংয়ে গেছিলা?’ বাবা জিজ্ঞেস করে, ‘কে বললো?’ পাতলু বলল, ‘জানি, গেছো, সব খবর আমার কাছে চলে আসে।’ বাবাকে বুঝিয়ে দিলো যে, পাতলুর অজান্তে তার উপর নজরদারি করে সুবিধা করা যাবে না। এই করেই চলছিলো।

এসএসসি পরীক্ষার কয়েকমাস আগে তাদের মনে ভয় ধরে গেলো। রেজাল্ট নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই, কিন্তু তাদেরকে ঘিরে সবার এতো আশা। তারা তো সেসব আশা পূরণ করতে পারবে না। আর সবার এতো আশা পূরণ না হলে তাদের উপর কী ধরনের ঘুর্নিঝড় আছড়ে পড়বে, সেটা ভেবে দুজনেই পড়ায় মনযোগী হলো। 

পরীক্ষায় সময় পরীক্ষা দিলো দুজনে। পরীক্ষা কেমন হয়েছে জিজ্ঞেস করলে, তাদের উত্তর, 'পরীক্ষা তো সবসময়ই ভালো হয়, কিন্ত রেজাল্টটাই কেনো জানি খারাপ হয়ে যায়, আর সব ভালো হতে হবে এমন তো কথা নেই। যেকোন একটা ভালো হলেই হলো'। 
পরীক্ষা পর্ব শেষ, এবার রেজাল্ট। রেজাল্টের আগের দিন তারা ঠিক করলো, যদি ৪ পয়েন্ট পায় তবে বাসা থেকে পালাবে। মা-বাবার হাতে খুন হওয়ার কোনো মানে হয় না। প্ল্যান হলো, কক্সবাজার যাওয়ার। তারা সমুদ্রে ঘুরবে কিছুদিন। তারপর বাবা-মাকে ম্যাসেজ করে জানাবে, যদি রেজাল্টের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না করে তাহলে বাসায় ফিরতে রাজি তারা। পরদিন সকাল ৯টায়, পাতলুর ফোন বেজে উঠলো। এক বন্ধু ফোন করে জানালো, সে বোর্ডে গিয়ে রেজাল্ট নিয়ে এসেছে, মোটু পাতলু দুজনেই জিপিএ ফাইভ পেয়েছে। পাতলু তখন গভীর ঘুমে, ঘুমন্ত অবস্থাতেই মোটুকে জানালো, আপাতত কক্সবাজারের ট্রিপটা তাদের মিস।

 এদিকে বাসায় পাতলুর বাবা-মার ফোনে একের পর এক আত্মীয়স্বজনের কল। ‘পাতলু কি টেনশন করছে? ওকে বলেন টেনশন না করতে, এসময় এরকম লাগে সবার’। পাতলুর মা-বাবার উত্তর, ‘ও ঘুমাচ্ছে’। শুনে তো ওদের মাথা নষ্ট। পাতলু টেনশন করছে না কেন— এটা নিয়ে তাদের টেনশন শুরু হলো। সাড়ে দশটার দিকে ঘুম থেকে উঠে, পিসি অন করলো সে। পাতলুর বাবা তার একটা ছবি তুলে বললেন, ‘কোনো এসএসসি পরীক্ষার্থী রেজাল্টের দিন, দিনের বারোটা বাজে ঘুম থেকে উঠে, কম্পিউটার নিয়ে বসছে, এ ঘটনা তো সচরাচর ঘটে না, তাই ছবি তুলে রাখলাম’। বুঝলো বাসায় আর বেশিক্ষণ শান্তিতে থাকা যাবে না। মোটুকে ফোন করে বললো, ‘গোল্ডেন না হলে তো কপালে খাওয়া জুটবে না, চল কোথাও খেয়ে আসি।’ বাসায় জানিয়ে গেলো, স্কুলে যাচ্ছে।

ভালো একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে অনেককিছু অর্ডার দিলো। কিন্তু শান্তিমতো খাওয়ার উপায় নেই। স্কুলের টিচারদের ফোন। তারা জানালো, ‘যাচ্ছি স্কুলে’। খেয়ে, কিছুক্ষণ ঘুরে তারা স্কুলে গেলো তিনটার দিকে।
গিয়ে দেখে স্কুল ফাঁকা, সবাই রেজাল্ট জেনে চলে গেছে। এরপর তারা মোটুর মামার বাসার ছাদে গিয়ে উঠলো, সাথে কিছু চিপস-চকলেট-আইসক্রিম। গোল্ডেন কনফার্ম না হওয়া পর্যন্ত বাসায় যাওয়া উচিত হবে কিনা বুঝে উঠতে পারছে না তারা। বিকালের দিকে গোল্ডেনের রেজাল্ট নেটে পাওয়া যাবে, ফোনের নেট সর্বক্ষণ অন। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, মামার বাসার ছাদের তালা বন্ধ করে দিতে পারে তাই কতক্ষণ এদিক সেদিক হেঁটে, দুজনে মোটুর বাসার ছাদে গিয়ে বসলো। নেটে সার্চ দিতে দিতে হঠাৎ পাতলুর রেজাল্ট পেয়ে গেলো, ‘গোল্ডেন’ আর মোটুরটা সার্চ দিয়ে দেখলো, বাংলায় মিস। ঠিক সেই মূহুর্তে মাথায় আকাশ ভাঙলো দুজনের। তারা এতোদিন পর্যন্ত যা কিছু করেছে সব দুইজনে মিলে, একসঙ্গে করেছে। এই প্রথম দুইজনের ভিন্ন রেজাল্ট। মোটুর চেহারার দিকে তাকিয়ে পাতলু কি বলবে বুঝতে পারছে না। এদিকে পাতলুর বাবা-মা বাসায় নেটে রেজাল্ট দেখে ফোন করে বাসায় যেতে বললেন। পাতলু মোটুকে ছাদে রেখে বাসায় চলে গেলো। মোটু ওখানে কতক্ষণ স্থির বসেছিলো, পাতলুর জানা নেই। বাসায় ফিরে পাতলুর মাথার ভেতরটা কেমন যেন করছে! মোটুর বাংলায় মিস— এটা মেনে নিতে পারছে না। আর দুইজনই মিস করলে হয়তো এতক্ষণে তারা কক্সবাজার যাওয়ার টিকেট কাটতো। এরপর সাহস করে মোটুকে ফোন করতে পারলো না পাতলু। রাতে ফোন করলে, মোটু কিছু কড়া কথা শুনিয়ে ফোন কেটে দিলো। মোটু পাতলুর কাহিনী আর না টানি।


আমি জানি এই কাহিনী অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যাবে। এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিল দুই দিন হলো। সব দিকে শুধু রেজাল্ট আর রেজাল্ট। কার ছেলে মেয়ে কেমন করলো, গোল্ডেন পেলো নাকি শুধু এ+ নাকি তাও পেলো না
এইসব নিয়ে আলোচনা চারদিকে। যাদের সন্তান ভাল করলো তারা সবাইকে গর্ব করে রেজাল্ট বলছে, আর যাদের সন্তান প্রত্যাশা অনুযায়ী রেজাল্ট করতে পারেনি, সেসব বাবা-মায়েরা মুখ লুকাচ্ছে আর সন্তানকে বোঝাচ্ছে, সে কতটা অযোগ্য! স্কুল লাইফের প্রিয় বন্ধুরা যারা একসঙ্গে খেলতো, একসঙ্গে আড্ডা দিতো তারা হঠাৎ একদিনে আলাদা হয়ে গেল। এক বন্ধু গোল্ডেন পেলো অন্য বন্ধু পেলো না। তাদের মধ্যে নিজেদের অজান্তেই এক ধরনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়। তাদের মধ্যে বিভেদের দেয়াল তৈরি করে দেয় এই রেজাল্ট। এতোদিনের বন্ধুত্ব ধ্বংস করতে এই রেজাল্টই যথেষ্ট। সব পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলেই পত্রিকায় কিছু আত্মহত্যার খবরও বের হয়। এইবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী বেশ কয়েকজন ছেলেমেয়ে আত্মহত্যা করে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। এইরকম আরও কিছু খবর এই কিছুদিন নিয়মিত পাবেন। প্রতিটা পরীক্ষার ফলাফল মানে অবধারিতভাবে কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ের মৃত্যু পারোয়ানা। আমাদের সবকিছু কেমন যেন সফলতা-কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। তুমি ভালো রেজাল্ট করেছো, ‘তুমি সফল’। তোমাকে সবাই মাথায় তুলে নাচবে। স্তুতিবাক্য ফুলঝুড়ি হয়ে ঝরে পড়বে। রেজাল্ট খারাপ কিংবা প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ হলে সব শেষ। সমাজ, পরিবার, আত্মীয়, স্বজন কানে বারবার মনে করিয়ে দিতে থাকে, ‘তুমি অযোগ্য’। বাবা-মা হিসেব দিতে শুরু করেন এতোদিন তার পেছনে কতো টাকা খরচ হয়েছে। বাবা মায়েরা ছেলেমেয়ের সফল বন্ধুটিকে দেখিয়ে সন্তানকে বলে, ‘তুই কি করলি?’ এই কথাগুলা তাদের মানসিকভাবে কতোটা পীড়া দেয়, সেটা শুধু সেই সন্তানই জানে।
 এভাবেই সন্তানের মনে জন্ম নেয় প্রবল হীনমন্যতা, নিজের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণাবোধ। একটা মানুষ নিজেকে কতোটা ঘেন্না করলে, কতোটা অসহায় বোধ করলে আত্মহত্যা করে তা আমাদের ধারনারও বাইরে।
এ কেমন সমাজে আমরা বাস করি, কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা; যেখানে জীবনের মূল্য শেখানো হয় না? যেখানে সফলতার কাছে মানুষ দাস হয়ে যায়।

 ঘুণেধরা শিক্ষাব্যবস্থায় রেজাল্ট হচ্ছে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টির মাধ্যেম মাত্র। আমি চাই এইসব ফালতু রেজাল্টের কারবার বন্ধ হোক। ভেদাভেদ দূর হোক। কিসের রেজাল্ট নিয়ে আমরা গর্ব করবো? আমাদের দেশে প্রতি বছর এতো এতো গোল্ডেনপ্রাপ্ত স্টুডেন্ট বের হচ্ছে, কি লাভ হচ্ছে আমাদের দেশের? তারা দেশের জন্য কি করছে? সবাই তো সেই টাকার পেছনে ছুটছে। সব যেন একেকটা গোল্ডেন রোবট তৈরি হচ্ছে।

সোমবার, ৯ মে, ২০১৬

বেশ্যা!

‘বেশ্যা’ শব্দটাকে আমরা সাধারণত গালি হিসেবে ব্যবহার করি। আমার ধারণা বেশ্যারা খুব সাহসী হয়। আমাদের সমাজে নারীকে দমিয়ে রাখার প্রধান অস্ত্রটি হল ‘চরিত্র’। পুরুষ নাকি চাইলে পারে, নারীর চরিত্র ‘নষ্ট’ করতে। সীমার বাইরে গেলেই নারীকে ‘সম্ভ্রম’ হারানোর ভয় দেখানো হয়। নারীর সম্ভ্রমটির অবস্থানটা ঠিক কোথায়? যোনির ভেতরে নাকি?

একমাত্র এই ভয়ের কাছে পরাজিত হয়েই নারী আজও বন্দী পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কাছে। এই ভয়ই নারীকে বাধ্য করছে পুরুষের আধিপত্য মেনে নিতে।
ঘরে বাইরে সব জায়গায় যৌন সন্ত্রাসীরা ওঁত পেতে থাকে, নারীর চরিত্র নষ্ট(!) করতে। আর যৌনসন্ত্রাসীদের চরিত্র নষ্ট হয় কিসে শুনি?

বেশ্যাদের তো এসব ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বেশ্যারা তথাকথিত ‘চরিত্র’ ‘সম্ভ্রম’ এর তোয়াক্কা করে না। তাই তারা অন্য যে কোন নারীর চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীন ও সাহসী। বেশ্যাদেরকে পুরুষের সৃষ্ট চরিত্র রক্ষা করতে হয় না বলে, তারা তাদের জীবনে পুরুষের আধিপত্য মেনে নিতেও বাধ্য নয়।

আর নির্লজ্জ পুরুষজাতটার কথা আর কি বলব। দিনে যাদের বেশ্যা বলে থুতু ছিটায়, রাতে তাদের খদ্দের হয়ে থুতু চাটতে যায়। বেহায়া হলে কি আর এতটা বেহায়া হতে হয়!

পুরুষের প্রয়োজনেই নারী বেশ্যা হয়। কিন্তু বেশ্যা হওয়ার পর বেশ্যা নারীর কাছে ওসব চরিত্র-টরিত্র কোন পাত্তা পায় না। চরিত্রকে তোয়াক্কা না করার এই সাহসটাকেই পুরুষ ভয় পায়, ঘৃণা করে। ওই সাহসের অংশটুকু বাদ দিলে বেশ্যা ব্যাপারটা বেশ মজাদার হয়ে উঠে।

বেশ্যা মানে যদি বহুগামী নারী হয় বহুগামী পুরুষকে তবে কি বলা যায়? পুরুষ নারীকে মাতৃত্ব, সতীত্বের গুন শোনায়। অথচ সমাজের অধিকাংশ পুরুষই বহুগামী। পুরুষের বহুগামীতা আবার একটা বিশেষ গুণ। এটা নাকি পুরুষের সক্ষমতাকে বোঝায়! আর নারী বহুগামী হলেই নাকি বেশ্যা!

কিছুদিন আগে কিছু অনলাইন পত্রিকায় নিউজ দেখলাম, ঢাকায় নাকি ধনী ঘরের মেয়েরা বয়ফ্রেন্ড ভাড়া করছে। ধনী মেয়েরা ছেলেদের ভাড়া করছে নিজেদের যৌন চাহিদা মেটাতে। এই খবর কতটা সত্য জানি না। হয়তো সত্য, হয়তো মিথ্যা। এই খবরের শিরোনাম করা হয়েছে ‘কোথায় যাচ্ছে এই সমাজ’। আপনারা আমাকে বলুন তো, ‘কোথায় ছিলো এই সমাজ’? বেশ্যালয়গুলোর খদ্দের হয় কারা? কারা টিকিয়ে রাখছে পতিতাবৃত্তি? বেশ্যালয় বন্ধের কথা বললে, সমাজে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেখানো হয়, ইনিয়ে বিনিয়ে বেশ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। তখন কোথায় যায় এই সমাজ-প্রশ্ন তুলেছেন কি? তখন এই শিরোনাম দানকারীরাই বা কোথায় থাকে?

শেখ হাসিনা নাস্তিক হত্যার দায় নিবেন না বলাতে চারদিকে সমালোচিত হচ্ছেন। আমরা বলছি, তিনি হত্যাকারীদের উৎসাহিত করছেন। কেউ একবার ভেবে দেখছেন, যুগ যুগ ধরে পুরুষ নারীর উপর আধিপত্য বিস্তার করতে নারীকে অত্যাচার করেছে, ধর্ষন করেছে, এর দায় যে শুধুই পুরুষের, এটা আমরা কয়জন মানি? উল্টো পুরুষকেই বানিয়েছি নারীর রক্ষাকর্তা! পুরুষ নারীর রক্ষক হলে, ভক্ষকটা তবে কে?

আসলে রক্ষক-ভক্ষক সব একই সুত্রে গাঁথা। রক্ষক পুরুষ চায় না নারী স্বাধীন ভাবে চলুক, নিজের কথা নিজে বলুক, নিজের দায়িত্ব নিজে নিক। রক্ষক চায় নারী ভয় পাক, ভয়ে গুটিয়ে থাকুক, নিজেকে দূর্বল ভেবে তার কাছে ছুটে যাক নিরাপত্তার জন্য, তার আধিপত্য মেনে নিক। আর রক্ষকের এই চাওয়াগুলো বাস্তবে টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে ভক্ষক পুরুষ।

পুরুষতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই কেউ রক্ষক, কেউ বা ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। যেদিন নারীর আর রক্ষকের প্রয়োজন হবে না, সেদিন থেকে আর নারীকে পুরুষের আধিপত্য মেনে নিতে হবে না।

নারী জানুক যে, তার নিরাপত্তার জন্য কোন পুরুষের প্রয়োজন নেই। নারী নিজেই নিজের রক্ষক হয়ে উঠুক। নারী জানুক তার সম্ভ্রম তার যোনিতে নয়, নারীর সম্ভ্রম নারীর কর্মে, জ্ঞানে।

মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০১৬

ব্লগার ও লেখক হত্যা - ব্লগারদের যৌথ বিবৃতি


আমরা, গভীর বেদনা ও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে বাংলাদেশে মুক্তমনা, নাস্তিক লেখক, প্রকাশক, ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং ধর্মীয় ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিবর্গ ইসলামি জঙ্গিবাদের হাতে একের পর এক হত্যা ও আক্রমণের শিকার হলেও এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেবার পরিবর্তে নিহত ও আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের উপর দায় চাপানোর এক নতুন সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিক আইন দ্বারা সুরক্ষা লাভের অধিকারী এবং সবার মত প্রকাশের অধিকার থাকা সত্ত্বেও গত ১৪ এপ্রিল ২০১৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বলেছেন, কেউ ধর্মের সমালোচনামূলক লেখালেখির কারণে খুন হলে সরকার তার দায়িত্ব নেবে না। এই ঘোষণার দ্বারা নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী সংবিধান এবং নাগরিকদের প্রতি তাঁর অঙ্গিকার থেকে স্পষ্টত সরে গেছেন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, অনলাইন এক্টিভিস্ট খুন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, “সে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর লেখালেখি করত কী না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন... আগের যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে তাদের ব্লগ যদি দেখেন, এভাবে মানুষের ধর্মে আঘাত দেওয়া, বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া, পৃথিবীর কোনো দেশেই তা গ্রহণযোগ্য নয়”। ইসলামি জঙ্গীদের আক্রমণে সমকামী আন্দোলনের দু’জন কর্মী খুন হলে একই কায়দায় তিনি মন্তব্য করেন “আমাদের সমাজে সমকামিতা মানানসই নয়”। পুলিশের মহাপরিদর্শক জনাব এ কে এম শহীদুল হক গত ২৬ এপ্রিল ব্লগারদের নিরাপত্তা প্রদান এবং গুপ্ত ঘাতকচক্র দমনে তার বাহিনীর অপারগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পুলিশ ঘরে ঘরে পাহারা দিতে পারবে না, নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরকেই নিতে হবে"। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের এহেন বক্তব্য দায়িত্বহীন, অপেশাদারসুলভ এবং উদ্বেগজনক। এছাড়াও সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া স্বীকার করেছেন যে, তাদের নজরদারীতে থাকা লেখক অভিজিৎ রায় ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের কয়েকজন খুনী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে! পুলিশের নজরদারীতে থাকা খুনীদের দেশ ছেড়ে পালানোর ঘটনা থেকে যৌক্তিকভাবেই সন্দেহ হয় যে, ব্লগার হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারে সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের ইচ্ছা ও আগ্রহের অভাব রয়েছে। এছাড়া সরকার ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের এই ধরনের মন্তব্য ও বিবৃতি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গীবাদকে উস্কে দেয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখতে খুনিচক্রকে অধিক মাত্রায় উৎসাহিত করছে। অন্য দিকে ভিন্নমত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারীকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ হিসেবে দেখিয়ে দায় থেকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে; অথচ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ইসলাম নিয়ে কথিত কটুক্তির অভিযোগ এনে জেলে ভরা হচ্ছে।

হেফাজতে ইসলাম এর আমীর আল্লামা আহমদ শফি যখন প্রকাশ্যে “নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে” বলে ফতোয়া দেন এবং সারাদেশে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, খুৎবায় নানাস্তরের জঙ্গীবাদী ইমাম, আলেম, খতিবরা নাস্তিকদের খুনের প্রকাশ্য ফতোয়া দিতে থাকেন, তখনও আমরা সরকারকে কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখি না। একই সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন পরিচয় দিয়ে ‘আওয়ামী ওলামালীগ’ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তারে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে। হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের যোগাযোগ এবং তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করার বিষয়টিও আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উপরন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ উগ্র মৌলবাদীদের সাথে দফায় দফায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী চুক্তি করছে এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সাম্প্রদায়িকীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগসহ ক্ষমতাসীন ১৪ দল তথা মহাজোট এবং তাদের সহযোগী সংগঠনসমূহ এসকল হত্যা-খুনের প্রতিকার প্রশ্নে নীরব থাকছে অথবা দলীয় ও জোট নেত্রীর দেখানো পথে আক্রান্তদেরই দোষারোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সংঘটিত হামলাগুলোর দায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা আনসার-আল ইসলাম (আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশীয় নেটওয়ার্কের বাংলাদেশ শাখা) এবং আইএস স্বীকার করলেও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ওস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আইএস, আল কায়দা প্রভৃতি জঙ্গী সংগঠনের উপস্থিতিকে অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে চলেছেন, যা মূলত সত্যকে আড়াল করে সরকারের উগ্র মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের সাথে সমঝোতা করে চলার কৌশল বলে আমরা মনে করি। অপরদিকে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু জামায়াতে ইসলামীসহ প্রায় ২০ টি ইসলামপন্থী দলের সাথে রাজনৈতিক জোট গঠন করেছে, যাদের অধিকাংশই জঙ্গীবাদের মদদদাতা কিংবা সরাসরি যুক্ত। ফলে সরকারি কিংবা বিরোধীদল কোনো পক্ষ থেকেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে জঙ্গীবাদ মোকাবেলার কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

জঙ্গী গুপ্তঘাতকদের আক্রমণের পাশাপাশি সরকার লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও মুক্তচিন্তার মানুষদের গ্রেফতার ও হয়রানি করছে। ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬’ (২০১৩ সালে সংশোধিত) এর ৫৭ ধারা প্রয়োগ করে লেখক ও ব্লগারদের মুখ বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ভয়াবহ হুমকীর মুখে পড়েছে। ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের দাবির প্রেক্ষিতে ৪ জন ব্লগারকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত অপরাধে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। হেফাজতকে সন্তুষ্ট করতেই ২০১৩ সালে ‘তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬’ এর সংশোধনী এনে সর্বোচ্চ সাজা বাড়িয়ে ১৪ বছর এবং সর্বনিম্ন সাজা ৭ বছর করা হয়। হেফাজতে ইসলাম ও ওলামা লীগের মতো উগ্র মৌলবাদীদের দাবির মুখে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি ২০১৫ সালে রোদেলা প্রকাশনী এবং ২০১৬ সালে ব-দ্বীপ প্রকাশনীকে বইমেলা থেকে নিষিদ্ধ করে। এছাড়া ২০১৬ সালে ব-দ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশককে ৫৭ ধারায় গ্রেফতারও করা হয়। বস্তুত ২০১৩ সাল থেকেই ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাতের এইরকম কথিত অভিযোগে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। স্কুলশিক্ষক, দর্জি, আদিবাসী, ছাত্র, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এরকম ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের মাধ্যমে গ্রেফতারের ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। কেউ একবার এই অভিযোগে গ্রেফতার হলে, তিনি ধর্ম অবমাননাকারী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যান এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকী মাথায় নিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। সর্বশেষ আক্রমণে এরকমই একজন, ৫৭ ধারায় মামলাপ্রাপ্ত হিন্দু দর্জি জঙ্গীদের চাপাতির আঘাতে খুন হন। এসব কালাকানুন এবং সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ক্রমাগত ‘সীমা লংঘন’ না করার হুমকি, বিপন্ন লেখক ও ব্লগারদের নিরাপত্তা সহায়তার জন্যে পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার সকল পথ বন্ধ করা হয়েছে। একদিকে জঙ্গীদের ভয়, অন্যদিকে ৫৭ ধারায় গ্রেফতারের ভয় - উভয় সংকটে পড়ে আজ মুক্তমনা লেখক, ব্লগার ও প্রকাশকদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক জীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত।
আমরা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বাংলাদেশের লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও এক্টিভিস্টদের লেখালেখির জন্য দায়ি করে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় হতে প্রদত্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি - তারা যেন ধর্ম, বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী তথা যাবতীয় ইসলামপন্থী ও জঙ্গীবাদী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করার জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই। ইসলামপন্থী ও জঙ্গীবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দেশের বৃহত্তম বিরোধীদল বিএনপি’র প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা বিবদমান রাজনৈতিক শক্তিসমুহকে জঙ্গীবাদ দমনের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য দেশের বুদ্ধিজীবি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, সংস্কৃতি কর্মীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই।

একই সাথে আমরা দাবি জানাচ্ছি-

১। বাংলাদেশে এ যাবৎ সংঘটিত লেখক, ব্লগার, অনলাইন একটিভিস্ট, ভিন্ন ধর্ম ও মতে বিশ্বাসী, সমকামী আন্দোলনের কর্মী এবং নাস্তিক- মুক্তমনাদের হত্যা ও হত্যাপ্রচেষ্টার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
২। দেশের সর্বস্তরের মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার সকল দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। ধারাবাহিক আক্রমণের শিকার মুক্তমনা ও সেক্যুলার লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, ভিন্ন ধর্ম ও মত-পথে বিশ্বাসী, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। সরাসরি হুমকিপ্রাপ্ত লেখক, ব্লগার, শিক্ষক, আন্দোলনকর্মী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সংখ্যালঘু সংগঠনের সাথে জড়িতদের জন্য জরুরি উদ্যোগে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। সংবিধান বর্ণিত বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমানভাবে ধর্ম পালন ও প্রচারের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় ও অবিশ্বাসী- নাস্তিক- মুক্তমনাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। সংবিধানের ৮, ১২ ও ২৮ ধারার সাথে সাংঘর্ষিক ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ সম্বলিত ২(ক) ধারা বাতিল করতে হবে। সংবিধানের ৩৯ ধারার চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-ভাব প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬’ (২০১৩ সালে সংশোধিত) এর ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।
৪। ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সেক্যুলার ব্লগারদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকী প্রদানকারী উগ্র মৌলবাদী ব্যক্তিবর্গকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অনলাইন, মুদ্রিত গণমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে জঙ্গীবাদী প্রবণতা এবং লেখক- ব্লগার- শিক্ষক- সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি হুমকিমূলক উস্কানি প্রভৃতিকঠোরহস্তে দমন করতে হবে।
৫। জামায়াতে ইসলামী, ওলামালীগ ও হেফাজতে ইসলামসহ জঙ্গীবাদের সাথে যুক্ত সকল সাম্প্রদায়িক দল এবং ইসলামি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গীবাদী গোষ্ঠীর সকল ধরনের কর্মতৎপরতা প্রতিহত করতে সরকারকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৬। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের লেখালেখির জন্য কিংবা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দোষারোপ বন্ধ করতে হবে। মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ পেশাজীবি ব্যক্তিদের কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং ব-দ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিকসহ গ্রেফতারকৃত সকল সেক্যুলার লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবি ব্যক্তিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
৭। কওমি মাদ্রাসাসমূহের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং মাদ্রাসার পাঠ্যসূচি থেকে সকল প্রকার সালাফি, ওহাবি ও মওদুদীবাদী মতাদর্শ বাতিল করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিন্ডার গার্টেন স্কুল, কোচিং সেন্টার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে বিশেষ কোনও ধর্ম শিক্ষা দিয়ে গোড়ামী এবং ধর্মান্ধতা সৃষ্টির পরিবর্তে সকল ধর্মমত ও যুক্তিসিদ্ধ মতবাদসমূহ যুগপৎ শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। জঙ্গী উৎপাদনের সুযোগ বন্ধ করতে, প্রয়োজনে মাদ্রাসাসমূহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৮। জুম্মাহর খুৎবা ও ওয়াজ মাহফিলে উগ্র মৌলবাদী প্রচারণা, অন্য ধর্মালম্বীদের প্রতি বিষোদগার ও জঙ্গীবাদ সংগঠিত করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যমে একক ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচার করে ধর্মান্ধতা সৃষ্টির পরিবর্তে মানুষকে নির্মোহভাবে সকল ধর্মমত জানার সুযোগ দিতে হবে। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, নাস্তিক্যবাদ, মানবতাবাদ, যুক্তিবাদ, দর্শন এবং বিজ্ঞানের উন্মুক্ত প্রচারণার সুযোগ দিতে হবে।
৯। যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে।


                                                        বিবৃতিদাতা ব্লগ ও ব্লগারদের তালিকা
ব্লগসমূহ:
নবযুগ ব্লগ, ইস্টিশন ব্লগ, উইমেন চ্যাপ্টার, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট, চুতরাপাতা, ধর্মকারী, ইতুর ব্লগ, অগ্নিরথ প্রমুখ 

লেখক, কবি, ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্ট:
(জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়, ইংরেজি বানানের বর্ণনানুক্রমিকভাবে নাম সাজানো হয়েছে)
A.Z Hossain (এ,জেড হোসেন)
Abul Kashem (আবুল কাশেম)
Ahmedur Rashid Tutul (আহমেদুর রশীদ টুটুল )
Ajanta Deb Roy (অজান্তা দেব রায়)
Akash Malik (আকাশ মালিক)
Alamgir Hussain (আলমগীর হুসেন)
Allama Shoitan (আল্লামা শয়তান)
Ananya Azad (অনন্য আজাদ)
Anju Ferdousy (আঞ্জু ফেরদৌসী)
Arif Rahman (আরিফ রহমান)
Arifur Rahman (আরিফুর রহমান)
Arpita Roychoudhury (অর্পিতা রায়চৌধুরী)
Ashraful Alam (আশরাফুল আলম)
Asif Mohiuddin (আসিফ মহিউদ্দীন)
Bhajan Sarker (ভজন সরকার)
Bonya Ahmed (বন্যা আহমেদ)
Camelia (ক্যামেলিয়া)
Chorom Udash (চরম উদাস)
Daripalla Dhomadam (দাঁড়িপাল্লা ধমাধম)
Daud Haider (দাউদ হায়দার)
Deepaboli Chowdhury (দীপাবলী চৌধুরী)
Dhrubo Tara (ধ্রুব তারা)
Ekush Tapader (একুশ তাপাদার)
Ettila Etu (ইত্তিলা ইতু)
Farzana Kabir Khan (ফারজানা কবীর খান)
Horus (হোরাস)
Iswar Kona (ঈশ্বর কণা)
Kazi Mamun (কাজী মামুন)
Khalid Hasan Alo (খালিদ হাসান আলো)
Mahbub Leelen (মাহবুব লীলেন)
Mahmudun Nabi (মাহমুদুন নবী)
Mahsina Khatun (মহসিনা খাতুন)
Maskwaith Ahsan (মাস্কাওয়াথ আহসান)
Md. Mumin Banda (মোঃ মুমিন বান্দা)
Milan Farabi (মিলন ফারাবী)
Mohiuddin Sharif (মহিউদ্দিন শরীফ)
Monika Muna (মণিকা মুনা)
Muhammad Golam Sarowar (মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার)
Nastiker Dharmakatha (নাস্তিকের ধর্মকথা)
Nur Nobi Dulal (নুর নবী দুলাল)
Omar Farooq Lux (ওমর ফারুক লুক্স)
Poruya (পড়ুয়া)
Prithu Sanyal (পৃথু স্যন্যাল)
Raihan Abir (রায়হান আবীর)
Rubina Khanam (রুবিনা খানম)
Sabbir Hossain (সাব্বির হোসাইন)
Saikat Barua (সৈকত বড়ুয়া)
Sannyasi Ratan (সন্যাসী রতন)
Sezan Mahmud (সেজান মাহমুদ)
Shahzahan Bachchu (শাহজাহান বাচ্চু)
Shamim Runa (শামীম রুনা)
Shamima Mitu (শামীমা মিতু)
Shammi Haque (শাম্মি হক)
Shantanu Adib (শান্তনু আদিব)
Shohiduzzaman Paplu (সহিদুজ্জামান পাপলু)
Shoikot Chawdhury (সৈকত চৌধুরী)
Shravan Akash (শ্রাবণ আকাশ)
Shubhajit Bhowmik (শুভজিৎ ভৌমিক)
Sobak (সবাক)
Subrata Shuva (সুব্রত শুভ)
Supriti Dhar (সুপ্রীতি ধর)
Susupto Pathok (সুষুপ্ত পাঠক)
Swapan Majhi (স্বপন মাঝি)
Syed Kamran Mirza (সৈয়দ কামরান মির্জা)
Syed Zamal (সৈয়দ জামাল)
Tahsib Hasan (তাহসিব হাসান)
Juliyas Caesar (জুলিয়াস সিজার)
Moon Taslima Sheikh (মুন তাসলিমা শেখ)