সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০১৫

নারী কি তবে পুরুষের চেয়ে শক্তিতে দুর্বল! কিন্তু-কেন, ভেবেছেন কি কখনো?

প্রগতিশীল পুরুষদের বলতে শুনি, 'নারীবাদীরা যত কিছুই বলুক না কেন, নারীরা প্রকৃতিগত ভাবে পুরুষের চেয়ে দুর্বল, আমি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী- সমানাধিকারে বিশ্বাসী কিন্তু সবলের কাছে দুর্বলের কিছুটা তো বশ্যতা স্বীকার করতেই হবে'

নারী শক্তিতে কোন দিকেই কম নয়, নারীকে সেটা বুঝতে দেয়া হয় না নারীকে দুর্বল বানিয়ে রাখা হয়, যাতে সে বুঝতে না পারে নিজের শক্তিটুকু, যেন সে পুরুষের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে নেয় বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি, যেটা পরে একটা দৌড় দিলেই নাক মুখ উল্টে পরবে যে কে কেউ  বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেলেও, বাঙালি নারী পাকিস্তান থেকে মুক্তি পায় নি শাড়ির পাশাপাশি নারীর আরেকটি পোশাক পাকিস্তানি  সেলোয়ার কামিজ- যেটাতে ওড়না ঠিক করতে করতেই দুনিয়াদারির অন্য কিছুতে নজর দেয়া যায় না বাঙালি মেয়ে শাড়ি না পরলে তাকে কি আর বাঙালি বাঙালি লাগে?? বাঙালি মেয়ের সৌন্দর্য শাড়িতে যেটা ইচ্ছা করলেই কেউ টান দিয়ে খুলে ফেলতে পারে, জিন্স প্যান্টে তো আর ওই সুবিধা পাওয়া যাবে না  এজন্যই শাড়িতে নারী অসুবিধা হলেও পুরুষের বেশ সুবিধা নারী ইংরেজদের পোশাক জিন্স পরলে সে খারাপ মেয়ে, ছেলেরা ইংরেজদের পোশাক পরলে, শিক্ষিত ছেলে শার্ট প্যান্ট পরে, টি শার্ট পরলে সে তো আরও আধুনিক ছেলে স্কুলের পোশাকগুলোতে ছেলেদের জন্য শার্ট প্যান্ট টাই মেয়েদের জন্য সেলোয়ার কামিজ, ইদানিং একটা হিজাব স্কার্ফ এর নতুন ঢং শুরু হয়েছে স্কুল কলেজের বেশিরভাগ মেয়ে হিজাব পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়, অনেক স্কুলে তো স্কার্ফকে স্কুলের পোশাকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মানে হল, যত শিক্ষাই তোমার হোক মেয়ে, পুরুষের সামনে তোমাকে মাথা নুয়ে রাখতে হবে  না, স্কুল কলেজে  ছেলেদের টুপি পরতে হয় না, দাঁড়ি ও রাখার প্রয়োজন হয় না যতসব ধর্মীয় নিয়ম, সামাজিক নিয়ম সব কেবল মেয়েদের জন্যই

স্কুল কলেজে মেয়েদের ড্রেস সেলোয়ার-কামিজ, সাথে উড়নার মত করে ক্রস বেল্ট পরতে হয় এসব ড্রেস পরে যখন কেউ দৌড় দেয়, তখন ক্রস বেল্ট উল্টে পাল্টে যায়, জামা বাতাসে উড়তে থাকে এভাবে দৌড়ালে নাকি দেখতে বিশ্রী লাগে, ছেলেরা নাকি তাকিয়ে থাকে, ছেলেরা নাকি হাসাহাসি করে, এই ভয়েই মেয়েরা আর কেউ দৌড়ায় না আমি অনেক মেয়েকেই দেখেছি রাস্তায় চলার সময় কোন ছেলে তার দিকে তাকিয়ে হাসলে বা হা করে তাকিয়ে থাকলে বা সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে পেছনের কাপড় বারবার ঠিক করে কারণ তা তাদের মনে অস্বস্তির জন্ম দেয়অথচ ছেলেদের প্রতি কোন মেয়ে তাকালে সে হিরো হিরো ভাব ধরে  রাস্তায় চলাফেরার সময় সবসময় মেয়েরা খেয়াল রাখে কেউ যেন তার সম্পর্কে বাজে কথা বলতে না পারে এমন ভাবে তাকে চলতে হবে, নইলে পাড়ায় তার চরিত্র নিয়ে লোকে গবেষণা শুরু করে দিবে, কিন্তু বাজে লোক তো বাজে কথা বলবেই আর বাজে লোকের বাজে কথার ভয়েই কিনা মেয়েদের পোশাকের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে???  না ছেলেদের এসব না ভাবলেও চলে ছেলে বলে কথা!!!

 মেয়েরা একটু বড় হলেই তার খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যায়, মেয়েরা কিভাবে বাইরে ক্রিকেট ফুটবল খেলবে, দেখতে বিশ্রী লাগবে না!! স্কুল কলেজে মেয়েদেরকে আমি তেমন মারামারি করতে ও দেখি নি ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়, তুমি মেয়ে, তোমার এটা করা চলবে না, ওটা করা চলবে না, তোমাকে মনে রাখতে হবে, তুমি ছেলে না, ওদের সাথে তুলনা দিয়ে তোমার লাভ নেই, ওরা অনেক কিছু করবে, সেসব ভেবে তোমার লাভ নেই ছোটবেলা থেকেই শক্তি চর্চার সব রাস্তা মেয়েদের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়, যাতে মেয়েরা বুঝতে না পারে, যে তারাও শক্তিতে কোন অংশে কম নয় তবে বলেন মেয়েদের শক্তিটা কিভাবে হবে??  আপনারা হয় তো জানেন আমাদের কানেন পেশী গুলো ঐচ্ছিক পেশী, মানে ইচ্ছে করলেই আমরা নাড়াতে পারি, কিন্তু আমরা তা পারি না কারণ আমাদের কানের পেশী নাড়ানোর দরকার পরে না বলে, ছোট বেলা থেকে হাত পা নাড়ানোর শিখলেও কানের পেশী আমরা নাড়াই নি, তাই বড় হয়ে আমরা আর কানের পেশী নাড়াতে পারি না মেয়েদের ক্ষেত্রেও এমন, তাদের ছোট থেকেই তাকে এমন ভাবে গড়া হয় যেন সে দুর্বল থাকে এটা অনেকটা এমন যে, আপনি কারো পা ভেঙ্গে দিয়ে সেই ভাঙ্গা পায়ের মানুষটিকে আপনার ভালো পা দুটোর শক্তি দেখিয়ে বলছেন যে, সে আপনার চেয়ে দুর্বল সে কেন দুর্বল, আপনি কেন শক্তিশালী এসব নিয়ে আর কেউ ভাবে না তখন


 না নারী দুর্বল না মোটেও নারীকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে এবং এভাবেই চলে আসছে হাজার বছর ধরে একটা বাচ্চা জন্ম দেয়ার কষ্ট শরীরের ৫০ ভাগ হাড্ডি ভেঙ্গে যাওয়ার কষ্টের সমান আর ছোট লোক পুরুষগুলো জন্ম নেয়ার পর ভুলে যায় সব নারীকে শারীরিক ভাবে দুর্বল প্রমান করতে ব্যস্ত হয়ে যায়!!!! হাজার বছর ধরে চলে আসছে বলে ভবিষ্যতেও চলবে এমনটা নয় পুরুষতান্ত্রিক এসব শৃঙ্খলে নারীকে বন্দী করে নারীকে দুর্বল প্রমানের চেষ্টা করে যাচ্ছে নারী অংশেই দুর্বল নয়, নারী কোন অংশেই কম মানুষ কিংবা আংশিক মানুষ নয়

ধর্মই সকল কৌতুকের উৎস

বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টির আদিতে প্রানী বা বস্তু কিছুই ছিল না। অপ এব সসর্দাদৌ- প্রথমেই জলের সৃষ্টি হলো। এই ব্রহ্মান্ডব্যাপী মহাসমুদ্রের উপর বিষ্ণু মহানিদ্রায় শায়িত ছিলেন। তাঁর নাভিকমলে ছিলেন ব্রহ্মা। এদিকে বিষ্ণুর কানের ময়লা থেকে মধু ও কৈটভ নামে দুই দৈত্যের জন্ম হলো। দৈত্যেরা ব্রহ্মাকে হত্যা করতে উদ্যত হলে ব্রহ্মা মহাময়া ও বিষ্ণুর স্তব করতে লাগলেন। মহামায়া প্রসন্ন হলে বিষ্ণুর মায়ানিদ্রা দূর হলো। তিনি মধু ও কৈটভকে বধ করলেন। ঐ দুই দৈত্যের মেদ থেকে মেদিনী অর্থাৎ পৃথিবীর সৃষ্টি হলো। আকাশ, বাতাস, স্বর্গ, পাতাল সপ্তদ্বীপা বসুন্ধরা ক্রমে সবই সৃষ্টি হলো। বিশ্ব ছিল সম্পূর্ণ তমসাচ্ছন্ন। চন্দ্র, সূর্য ও তারকারাজি সৃষ্টি করে ঈশ্বর অন্ধকার দূর করলেন।

এদিকে কশ্যপ মুনির দুই পত্নী, দিতি ও অদিতি। দিতি থেকে দৈত্যদের এবং অদিতি থেকে জন্ম হলো দেবতাদের। এখন মানুষ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

ব্রহ্মা সৃষ্টি বিস্তারের জন্য মানসপুত্র ঋষিদের সৃষ্টি করলেন। কিন্তু ঋষিরা বংশবিস্তারে মনোযোগ না দিয়ে তপস্যায় মগ্ন হলেন। ব্রহ্মা প্রথম নারী ও পুরুষের সৃষ্টি করলেন। প্রথম সৃষ্ট পুরুষের নাম স্বায়ম্ভুব মনু, নারীর নাম শতরূপা। মানুষ মনুর সন্তান বলে মানব নামে পরিচিত

সুত্রঃ হিন্দু ধর্ম শিক্ষা, নবম দশম শ্রেনি, শিক্ষাবর্ষ ২০১২।

সবাই বুঝলেন তো কিভাবে পৃথিবী সৃষ্টি হল, কিভাবে মানুষ সৃষ্টি হল?? ধর্মাকারীর শ্লোগান, ধর্মই সকল কৌতুকের উৎস। হোক কৌতুক, তাও ধর্ম তো, নাকি? একে নিয়ে কি হাসাহাসি করা যায়? পাপ হবে না?

কেউ হাসবেন না। এতে অনুভূতি আঘাত প্রাপ্ত হতে পারে। আর অনুভূতি আঘাত পেলে এর চিকিৎসা পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সমূহতে উল্লেখ না থাকার কারনে ধার্মিকেরা আপনাকে হত্যা করে আপনার রক্তকে ক্ষত স্থানে মলম হিসেবে ব্যবহার করবে

একবিংশ শতাব্দীতে, মাথার উপর ফ্যান-লাইট নিয়ে, ল্যাপটপ-মোবাইল ইউজ করতে করতে যখন পৃথিবী সৃষ্টির এমন কাহিনী ক্লাসে পড়ানো হয় তখন কি আর কিছু বলার থাকে? অমুক ধর্মে কৌতুক আছে, কিন্তু আমার ধর্মে নেইএই কথা বলে কেউ প্লিজ আপনার ধর্ম নিয়ে আমাকে হাসতে এবং হাসাতে বাধ্য করবেন না, অনুভুতির প্রতি যত্নবান হোন। আমার ধর্মই একমাত্র সত্য, বাকি সব মিথ্যা  সব ধার্মিকদের মতেই তার নিজ নিজ ধর্ম হল একমাত্র সত্য, এটা আমরা জানি।

যার যার ধর্ম সে পালন করুক, এতে নাস্তিকদের সমস্যা কোথায়?

-কোন শিশু জন্ম গ্রহণ কারার পর সে যেই পরিবারে জন্ম গ্রহন করে, সেই পরিবারের ধর্ম লাভ করে। নাস্তিকদের মূল সমস্যা হল সেখানে। একটি শিশু জন্মের পর থেকেই তার মগজ ধোলায় কার্যকক্রম শুরু। তাকে চিন্তা করার সুযোগ দেয়া হয় না, জানার সুযোগ দেয়া হয় না। নিজের মত বলে যে কিছু আছে, সেটা বুঝার আগেই তাকে মেনে নিতে হয় ধর্মীয় মত, বিশ্বাস করতে হয় ধর্মে। আর ছোটবেলা থেকেই যেই বিশ্বাস তার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়, সেই বিশ্বাসের ভূত মাথা থেকে তাড়ানো কোন সহজ কাজ নয়। নাস্তিকেরা ব্লগে ফেইসবুকে লেখালেখি করছে, মানুষের মাথা থেকে সেই প্রাচীন বিশ্বাসের ভূত তাড়ানোর মত কঠিন কাজটিই করে যাচ্ছে। বিশ্বাসীরা না বুঝে হত্যা করছে এসব প্রগতির পক্ষের মানুষদের। কিন্তু আমরা থামছি না।
যেই কাজে নিজের স্বার্থ থাকে সেই কাজটি হয়তো মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে থামানো যায়। কিন্তু যেই কাজে নিজের কোন স্বার্থ নেই, অন্যের জন্য যেই কাজ, সেই কাজে ভয় দেখিয়ে থামানো সম্ভব নয়। কারন নিজের কথা না ভেবে অন্যের জন্য যারা ভাবছে তারা নিজের জীবনের পরোয়া না করেই এই কাজ করছে, তারা অন্যের জন্য নিজের জীবনটি উৎসর্গ করছে। তারা মৃত্যুকে ভয় করে না।

কারো বিশ্বাসে আঘাত দেয়ার কি দরকার? নাস্তিকরা বেশি বাড়াবাড়ি করে।

-বিশ্বাসে আঘাত না করে কি সভ্যতা আগানো সম্ভব? পুরানো বিশ্বাসকে আকড়ে ধরে রাখলে সভ্যতা কি করে এগোবে? পৃথিবীতে এত এত ধর্ম। পুরাতন ধর্মকে আঘাত করেই তো নতুন-নতুন ধর্মের সৃষ্টি হয়েছে। সেই নতুন আবার কালের বিবর্তনে পুরাতন হয়েছে। কাজেই বিশ্বাসে আঘাত কোন নতুন বিষয় না। বিশ্বাসে আঘাত না করলে সভ্যতা থমকে দাঁড়াবে। কিন্তু সভ্যতার চাকা কি থামিয়ে দেয়া সম্ভব? সভ্যতা এগিয়ে চলবে। হয়তো এতে অনেক ত্যাগ লাগবে, অনেক রক্ত লাগবে। আমরা রক্ত দিতে প্রস্তুত। আমাদের রক্তের স্রোতেই আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব সভ্যতাকে।


১৫/৫/২০১৫

তবুও তরী বাইতে হবে খেয়া পাড়ি দিতেই হবে যতই ঝড় উঠুক সাগরে

ভাষার মাসে খুন হল অভিজিৎ, স্বাধীনতার মাসে খুন হল ওয়াশিকুর বাবু। বাংলা ভাষায় নিজ নিজ মত প্রকাশের স্বাধীনতাটুকু এদেশে নেই। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রস্বাধীনতা তবে কাদের জন্য??? বিষয়টি নিয়ে ভাববার সময় এসেছে বটে।

মুক্তমনা লেখকব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যার ১মাস ৪ দিনের দিন আরেকজন ব্লগার ওয়াশিকুর  বাবুকে কুপিয়ে হত্যার খবর পেলাম। ব্লগার হত্যার খবর এখন কেমন জানি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, যেন এটাই নিয়ম, হবে নাই বা কেন? অভিজিৎ হত্যার এত এত প্রমান থাকা সত্ত্বেও কিছুই কি হয়েছে এই ক মাসে?? কিছুদিন গ্রেপ্তারের নাটক করে ছেড়ে দেয়া হবে। 

ওয়াশিকুরের খুনের পরিকল্পনা হয়েছে চট্টগ্রামের হাটাজারির একটি মাদ্রাসায় বসে। খুনীরা মাদ্রাসার ছাত্র।আর খুনীদের ধরতে সাহায্য করেছে কয়েকজন হিজড়া। যাদের আমরা মানুষ বলেই গন্য করি না, তারা আজ আমাদের মনুষ্যত্ব কি তা শিখিয়ে গেলো।

ব্লগ কি বুঝি না, আর তার লেখাও আমরা দেখিনি। হুজুরের পরামর্শ, সে ইসলামবিরোধী। তাকে হত্যা করা ঈমানি দায়িত্ব। আর সেই ঈমানি দায়িত্ব পালন করতে ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছিব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই মাদ্রাসার ছাত্র জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম আটকের পর পুলিশের কাছে এমন তথ্য দিয়েছে। খুবই স্বাভাবিক। তাদের জঙ্গী কারখানা (মাদ্রাসা) থেকে যা শিক্ষা পেয়েছে সেই অনুয়ায়ী কাজ করেছে। তাই ব্লগার ওয়াশিকুরের হত্যার জন্য দায় শুধু খুনীদের দেই কি করে?? খুনীদের তো প্রশ্রয় দিয়েছে রাষ্ট্র।

তবে খুন করে যদি মুক্তচিন্তাকে থামিয়ে দেয়া সম্ভব বলে মনে করে কেউ তবে খুব ভুল করবে। কয়েকদিন আগে চিটাগাং এ কোন এক প্রাইভেট ভার্সিটিতে একজন ছাত্রকে মুক্তচিন্তার অপরাধে টিসি দেয়া হয়। তার আরও সাত সহপাঠীতে সতর্ক করা হয়। বরিশালে এক কলেজ ছাত্রকে মুক্তচিন্তার অপরাধে কলেজ থেকে বহিষ্কার কারার দাবীতে মানববন্ধন করা হয়....।

খুনের সংখ্যা যেমন বাড়ছে মুক্তচিন্তার মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ছে। তাই খুন করে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না এটা নিশ্চয়ই তারা বুঝেছে। বাংলাদেশে অনলাইনে একটি বিপ্লব চলছে, একটি যুদ্ধ চলছে। বাক স্বাধীনতার জন্য আমরা যুদ্ধ করছি। এই যুদ্ধে রাজিব হায়দার প্রান দিয়েছেন, অভিজিৎ রায় প্রান দিয়েছেন, ওয়াশিকুর বাবু প্রান দিয়েছেন। তাদের আদর্শকে সামনে রেখে, শোককে শক্তিতে পরিনত করে আমরা আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাব।


কলম চলবে
WordsCannotBeKilled

হোক প্রতিবাদ

৩১মার্চ, ২০১৫

তবে কিসের সমানাধিকারের কথা আমরা বলি‍!

আমার কলেজের এক মেয়ে বন্ধু সেদিন বলল, সে তার স্কুলের বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবে, আমি যেন তাকে আইডিয়া দিই আমি বললাম, কিসের আইডিয়া ও বলল, বাসায় কেমনে ম্যানেজ করবে সেটার আইডিয়া আমি অবাক হয়ে বললাম, তুই ঘুরতে যাবি,সেটাই সরাসরি বলে দিবি, এইখানে এতো ম্যানেজ করার কি আছে? তুই কি যুদ্ধে যাচ্ছিস নাকি?

ও বলল, 'তোমার মত তো এত স্বাধীন না যে, 'বের হচ্ছি' বলে ঘর থেকে বের হয়ে যাবো, আমাকে কলেজ আর কোচিং ছাড়া অন্য কোথাও যেতে দেয় না'।

আমার মনে প্রশ্ন জাগে, আচ্ছা, এমন কোন কলেজ পড়ুয়া ছেলে আছে নাকি, যাকে বন্ধুদের সাথে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘুরতে যেতে বাবা মাকে ম্যানেজ করতে হয়? কলেজ কোচিং ছাড়া অন্য কোথাও যেতে হলে বাবা মাকে কি বলবে সেটা নিয়ে ২ সপ্তাহ আগে থেকে প্ল্যান করতে হয়? আছে নাকি কেউ?

আমার ছেলে বন্ধুরা তো যখন যেখানে খুশি সেখানে চলে যেতে পারে, ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মা বাবাকে ভাবতে হয় না যে, ছেলে কোন বদ মানুষের খপ্পড়ে পড়ল কিনা, ছেলের কোন বিপদ হল কিনা, তবে আমার মেয়ে বন্ধুটির জন্য কেন তার মা বাবাকে এত চিন্তা করতে হয়?
আমার অনেক মেয়ে বন্ধু আছে যাদের বাসা থেকে তাদের ফেইসবুক ইউজ করা নিষেধ, কেউ কেউ বাসায় না জানিয়ে ফেইসবুক চালায়, কেউ কেউ আবার নিজেদের ছবি দিতে ভয় পায়, ছেলেরা ছবি নিয়ে যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলে

ফেবুর ব্যাপারটা ছেলেদের ক্ষেত্রে , 'ফেবু চালাবো সেটা নিয়ে আবার অনুমতি নেয়ার কি আছে?' ছেলেরা নির্দ্বিধায় ফেবুতে ছবি দিতে পারে, তাদের ভয়ে থাকতে হয় না মেয়েরা তাদের ছবি নিয়ে কিছু করবে কিনা, এইসব নিয়ে

আমার ঘর থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোন নিষেধ নেই, (কিন্তু মাঝেমাঝে লেখাপড়া না করে সারাদিন বাইরে বাইরে ঘুরলে তখন একটু বকা দেয়) ফেবু চালানোর ক্ষেত্রে আমার তেমন কোন নিষেধ নেই ( উল্টো আমার বাবা আমার কাছ থেকে ফেইসবুক ইউজ শিখে, আমি ইতুস ভয়েজে যা কিছু লিখি সেসব বাবার অফিস থেকে প্রিন্ট করে নিয়ে আসে) যেহেতু আমার এইসব ব্যাপারে পরিবার থেকে কোন নিষেধ আসে না, তবে আমার সমবয়সী আর দশটা মেয়েকে কেনো ঘর থেকে বের হতে দিবে না, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে দিবে না, ফেইসবুক ইউজ করতে দিবে? আমার ছেলে বন্ধুদের তো এত বাঁধা নিষেধ মেনে চলতে হয় না, তবে আমার মেয়ে বন্ধুটির জন্যই কেনো এত বাঁধা, এত বিধি নিষেধ?? এইসব প্রশ্ন আমাকে খুব ভাবায় প্রতিনিয়ত

আমার ছেলে বন্ধুরা যারা এইসব স্বাধীনতা উপভোগ করেন তাদের কি ভাবায়, কেনো আপনি যেরকম স্বাধীন ভাবে চলতে পারেন, আপনার মেয়ে বন্ধুটি সেটা পারে না, কেনো তাকে মেনে চলতে হয় হাজারো বিধি নিষেধ, কেনো তাকে সর্বদা তার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়? এইসব প্রশ্ন কি কখনো আপনাদের মনে এসেছে? কিছু মুহূর্তের জন্য ও কি আপনাদের ভাবিয়েছে এইসব প্রশ্ন?


কিসের সমানাধিকারের কথা আমরা বলি? এইখানে তো মাত্র দুইটা সমানাধিকারের নমুনা দেখালাম, এমন হাজার হাজার সমানাধিকারের নমুনা আমি দেখাতে পারি সমানাধিকার বলতে আমাদের সমাজে আসলেই কি কিছু আছে? নিজেরা একবার ভেবে দেখবেন তো......

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০১৫

আমাদের দেশে নারী শিক্ষার অবস্থা

আমাদের দেশের বেশির ভাগ পরিবারে মেয়েকে লেখাপড়া শেখায় ভাল একটা ছেলের কাছে মেয়েকে তুলে দেয়ার জন্য, আর ছেলের পরিবার গুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘরের বউদের বাড়ির বাইরে কাজ করাটা ভাল ভাবে নেয় না কিন্তু সরকার শিক্ষাখাতে এত টাকা খরচ করছে কত ধরনের নতুন প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে, এইসব কাজ করে সরকার ভাবছে প্রতিবছর কিছু নতুন নতুন সৃজনশীল ছাত্র ছাত্রী পাস করে বের হচ্ছে, যারা দেশের জন্য সমাজের জন্য তাদের মেধাকে কাজে লাগাবে
 
অথচ মেয়েগুলা পড়ালেখা করে ভাল জামাই পাওয়ার জন্য আর ছেলে গুলা লেখাপড়া করে একটা শিক্ষিত দাসী পাওয়ার জন্য এর বাইরে চিন্তা করে খুব কমই আছে পরিবারে অর্থের দরকার হলেই একমাত্র মেয়েটিকে চাকরীর অনুমতি দেয় অর্থের দরকার না হলে বলে চাকরীর দরকার নেই মেয়েটি এক্ষেত্রে তেমন কোন প্রতিবাদ করে না তাদের মতে, 'কি দরকার চাকরী করার, বেশ তো চলছে, অযথা সংসারে ঝামেলা করার কোন দরকার কি!' এভাবেই আমাদের মেয়েগুলোর মেধাকে রান্না ঘরের হাড়ি বাসনের মধ্যেই আবদ্ধ রাখা হয়

তারা শিক্ষিত হয় যাতে আরও ভালভাবে হাঁড়ি বাসন গুলো ভিম বার দিয়ে মাজতে পারে, তারা শিক্ষিত হয় যাতে আরও সুন্দর ভাবে ঘরদোর গুছিয়ে রাখতে পারে, বাচ্চাদেরকে যাতে স্কুলে নিয়ে যেতে ও আসতে পারে, অতিথিদের যাতে আরও ভালভাবে আপ্যায়ন করতে পারে। আর হাড়ি বাসন ছাড়া অন্য কোন কিছু নিয়ে যদি তারা ভাবে, সেটা হল সাজগোজ কিভাবে আরও আকর্শনীয় ভাবে রূপচর্চা করতে পারে, তাদের স্বামীরা তাদের কেমন দেখতে পছন্দ করে, যেভাবে সাজলে তার স্বামী খুশি হবে ঠিক সেভাবে সেজেগুজে পুতুলের মত বসে থাকে স্বামীর অপেক্ষায় আমাদের সমাজে এই হল আদর্শ গৃহিণীর রূপ এইভাবেই আমাদের সমাজে বেশির ভাগ মেয়েদের মেধা হেলায় ধ্বংস হয়ে যায় সমাজ তথা দেশের জন্য তাদের মেধা কোন ভাবে কাজে লাগে না


কিন্তু কোন ছেলে তো তার চাকরি ক্যারিয়ার ভুলে যায় না, কোন ছেলে তো ভাবে না যে আমার বউ বাইরে কাজ করবে আমি সংসারের কাজ করব- এমন টা কোন ছেলেই ভাবে না, কারণ এই ব্যাপারটা ছেলেদের জন্য খুব লজ্জাজনক ছেলে বউয়ের কথা শুনে চলে, এইটা আমাদের সমাজের মানুষেরা খুব খারাপ ভাবে নেয় এই ধারনা পাল্টাতে হবে এই ধারনার মূলে হল, মেয়েরা যোগ্যতা থাকার পর ও চাকরি না করে তারা ছেলেটির উপর নির্ভরশীল হয়, সেক্ষেত্রে মেয়েটির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকে না আর পুঁজিবাদী সমাজে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যার নেই তাকে দাসী ছাড়া আর কি বলা যায়?

আমরা যারা একাত্তর দেখি নি

১৬ ডিসেম্বর সকালে বিজয় দিবসের একটি র‍্যালিতে গিয়েছিলাম র‍্যালিতে আমার পিছনে দুই বন্ধু কথা বলছিল এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলল, 'বল তো, স্বাধীনতার ঘোষণা কোন জায়গা থেকে দেয়া হয়েছিল?' তারপর সেই বন্ধুই উত্তর দিলো, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ,কালুর ঘাট, বেতার কেন্দ্র থেকে তবে ঘোষককে ছিল, সেটা নিয়ে কনফিউশান আছে, কেউ বলে, শেখ মুজিব, কেউ বলে জিয়া'।

আমি তাদের এই আলোচনা শুনছিলাম আর এই বিষয়টা নিয়ে ভাবছিলাম এই নিয়ে আমার ভাবনাটুকুই সবার সাথে শেয়ার করি--

আমাদের পাশের দেশ ভারত ভারতে 'স্বচ্ছ ভারত' নামে একটি মুভমেন্ট শুরু করেছে মোদী সরকার মুভমেন্টটি মূলত হল, তারা তাদের দেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী ২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্ম জয়ন্তী  তাই মোদী সরকার ঠিক করলেন ২০১৯ সালে তারা দেশকে আবর্জনা মুক্ত করে মহাত্মা গান্ধীর জন্ম জয়ন্তীতে মহাত্মা গান্ধীকে জাতির পক্ষ থেকে একটি সুন্দর- স্বচ্ছ ভারত উপহার দিবেন
এই নিয়ে ভারতের প্রধান মন্ত্রীমোদীর একটি বক্তব্য ইউটিউবে

মহাত্মা গান্ধী  কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা আর বিজেপি কংগ্রেসের বিরোধী দল মহাত্মা গান্ধী কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা বলে, মোদী ও তার দল বিজেপি  মহত্মা গান্ধীকে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নেয় নি, এমনটা কিন্তু ঘটে নি তারা উল্টো গান্ধীর জন্ম জয়ন্তীতে তাকে স্বচ্ছ ভারত উপহার দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে

এবার আমাদের দেশের কথা বলি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দল আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয় শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির পিতা বাংলাদেশের আরেক শক্তিশালী বিরোধী দল বি এন পি বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা বলে, তারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নেয় নি  জাতির পিতার মৃত্যু দিনে, তারা কেইক কেটে জন্মদিন পালন করে, তারা ক্ষমতায় এলে ইতিহাসকে পর্যন্ত ক্ষমতার জোরে পাল্টে দেয়ার সাহস দেখায়  তরুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে

শুধু জাতির পিতা নিয়েই তারা রাজনীতি করে নি, 'জয় বাংলা' বাঙ্গালির স্বাধীনতার এই প্রেরণাদায়ক শ্লোগানকে বদলে দিয়ে, 'বাংলাদেশ জিন্দাবাদ' বানিয়ে দেশে পাকিস্তানের ভূত ঢুকানোর চেষ্টা করেছে

আর অন্যদিকে আওয়ামীলীগ  'জয় বাংলা' কে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ধরে নিয়েছে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও এদেশে স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে তর্ক হয়, বাংলাদেশই সম্ভত পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেই দেশে স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি রাজনীতি করতে পেরেছে

যে দেশে স্বাধীনতার ঘোষণা 'কে' দিলো- এই নিয়ে রাজনীতি হয়, যে দেশে দেশবিরোধী শক্তিরা রাজনীতি করে, ক্ষমতায় যায়, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও যে দেশের তরুন প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্ত হয়, যে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ব্যবসা হয়, ইতিহাস নিয়ে রাজনীতি হয় সে দেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে সেটা আমি কল্পনা ও করতে পারি না

তবে আশার কথা এই যে, ২০১৩ সালে এদেশের তরুন প্রজন্ম একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, সৃষ্টি করেছে, 'গনজাগরণ মঞ্চ' এই প্রজন্মটি ৭১ দেখে নি, তারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে- সিনেমায়, নাটকে তারা ইতিহাস জেনেছে বই পড়ে কিন্তু তাদের চেতনায় কোন ত্রুটি নেই তারা দেশপ্রেম নিয়ে ভণ্ডামি করতে জানে না তারা চেতনা নিয়ে ব্যবসা করতে জানে না স্বাধীনতার এত বছর পরে হলেও এই প্রজন্ম রাজাকারের ফাঁসির দাবীতে রাস্তায় নেমেছে হাসিনা সরকার অনেক বাঁধা বিপত্তির মাঝে ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু করেছে

সরকারের কাছে আমাদের এই প্রজন্মের একটিই দাবী, যেই নরপশুরা বাঙালি হয়েও আমার দেশের স্বাধীনতা চায় নি, যারা আমার পিতাকে হত্যা করেছে, আমার মায়ের সম্ভ্রমহানি করেছে, সেসব হায়েনাদের যেন ফাঁসিতে ঝুলানো হয় তাদের বিচার নিয়ে যেন জাতির সাথে কোন ছলনা করা না হয় অবিলম্বে যেন এদেশে জামায়ত ইসলামের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয় এক্ষেত্রে আমরা পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা থেকে শিক্ষা নিতে পারি পাকিস্তানে, তালেবানদের আশ্রয় পশ্রয় দিয়েছে তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মের দোহায় দিয়ে তালেবানেরা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা সহানুভূতির জায়গা ও সৃষ্টি করে নিয়েছে তালেবানের হামলায় পাকিস্তান দেশটা আর দেশ নেই, রাস্তায় ঘাটে যে কোন সময় বোমা হামলা, স্কুলে শিশুদের হত্যা থেকে শুরু করে, করে না এমন কোন জঙ্গী কার্যক্রম বাকি নেই পাকিস্তানের তালেবান আর বাংলাদেশের জামায়েত ইসলামের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই তাই যত দ্রুত সম্ভব এই জঙ্গী সংগঠনটিকে যেন নিষিদ্ধ করা হয়, তাদের বিভিন্ন অর্থের উৎস গুলো যেন বন্ধ করা হয়

জাতিকে কলঙ্কমুক করার যেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে তরুন প্রজন্ম আন্দোলনে নেমেছে, এই আন্দোলনের সফলতা কামনা করছি





জয় বাংলা

নন্দন পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম গুলোতে কি হচ্ছে

গত জুলাইয়ে ওয়াটার কিংডম গিয়েছিলাম বন্ধু অনন্যার সাথে ওয়াটার কিংডমের পানিতে হাঁটাহাঁটি করছিলাম হটাত দেখলাম পিছনে কিছু ছেলে দৌড়ে আসছে আশেপাশে সব জায়গা খালি কিন্তু ওরা আসছে আমাদের দিকেই আমি সেটা দেখতে পেয়ে আমার বন্ধুর হাত ধরে টেনে সরিয়ে আনার চেষ্টা করলাম কিন্তু তার আগেই তারা দৌড়ে এসে আমার বন্ধুকে পানিতে ফেলে দিলো পাকা ফ্লোরে জোরে ধাক্কা খেয়ে পড়লে কেমন ব্যাথা সেটা সবাই জানে ওর পা থেকে রক্ত পরছিল আমি ও সামান্য ব্যাথা পেয়েছিলাম যাই হোক, আমি সাথে সাথে ছেলে গুলোর পিছু নিলাম, গিয়ে গালাগালি শুরু করলাম গ্রুপের ন্যাতা, যে এই কাজ করেছে সে আমাকে মারতে তেড়ে আসলো, চোখ লাল করে বলল, 'হু টোল্ড মি বেয়াদপ।' আমি বললাম, 'আমি বলছি, বেয়াদপ বলছি, কুত্তার বাচ্চা তো এখনো বলি নাই।' ছেলেটা মনে হয় এমন কথা শুনতে অভস্থ্য নয় আমার গায়ে হাত তুলতে আসলে, তার গ্রুপের অন্যান্যরা তাকে বলে যে, 'ছোট ছেলে , বুঝে নায়, মাফ করে দেন।' এমন ভাব যেন আমি দোষ করেছি


এরপর আমি সেখানে থাকা গার্ডকে জানালাম ঘটনাটি গার্ড বলল, আপনারা পানি থেকে উঠে যান ওদের থেকে দূরে থাকুন, তাহলেই হবে শুনে আমার মেজাজ গেল আগুন হয়ে দোষ করল ওই অসভ্য গুলো, আর তাদের দোষের জন্য আমাদের শাস্তি পেতে হবে এ কেমন কথা? বুঝলাম এই গার্ডের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই, অন্যদিকে চলে গেলাম কিন্তু আমার মাথায় ঘুরছে কুত্তা গুলাকে কিভাবে শাস্তি দেয়া যায় সেটা আমি সুযোগ বুঝে ওদের কিছু ছবি তুলে নিলাম হটাত কিছু পুলিশ আসলো সেখানে আমি তাদের কাছে গিয়ে ব্যাপারটা বললাম আমার দেখাদেখি আরও অনেকেই বলল যে তাদের গ্রুপের মেয়ে সদস্যদের সাথে ও ছেলেগুলো এমন অসভ্যতা করেছে আমি পুলিশদের ওই কুত্তা গুলোর ছবি দেখিয়ে দিলাম সব দেখে তারপর পুলিশ গুলো বলল, 'আমাদের তো এখন ডিউটি নেই, এমনিতেই এসেছি, আপনারা একটু সেইভে চলবেন আরকি, তাহলেই হবে' আমি বুঝে উঠতে পারলাম না, পুলিশদের কাজ জনগণের নিরাপত্তা দেয়া নাকি সন্ত্রাসীদের নিরাপত্তা দেয়া ওই সন্ত্রাসী গুলো বুক ফুলিয়ে যেখানে ইচ্ছা যাবে, যা খুশি করবে, আর আমাদের 'সেইভে' চলতে হবে!!!

সেদিন বাবাকে বললাম সী ওয়ার্ল্ড যাবো বন্ধুদের সাথে বাবা বলল,  'সী ওয়ার্ল্ড এর রাস্তাটা নিরাপদ না তোমরা আরও যাবে মেয়েরা কোন অভিভাবক ছাড়া।' আমি বললাম, আমার কোন সমস্যা হবে না (আমাকে দেখে যেহেতু বুঝা যায় না যে আমি মেয়ে, তাই ওরা বুঝে উঠতে পারবে না, আমার মুখের দিকে তাকাবে নাকি বুকের দিকে তাকাবে) বাবা বলল, 'তোমার সমস্যা হবে না কিন্তু তোমার ফ্রেন্ডদের নিয়ে তুমি সমস্যায় পরবে।' আমার ছেলে বন্ধুরা যখন যেখানে খুশি যেতে পারে, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মা বাবার ভাবতে হয় না কিন্তু আমার মেয়ে বন্ধুদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হয় প্রতিমুহূর্তে তসলিমা নাসরিনের একটি কথা তখন খুব মনে পড়ল, ''আমি বিশ্বাস করি নারীর কোন দেশ নেই দেশ মানে যদি নিরাপত্তা, দেশ মানে যদি স্বাধীনতা, তবে নারীর নিশ্চয়ই কোন দেশ নেই পৃথিবীর কোথাও নারী স্বাধীন নয় পৃথিবীর কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই নিরাপত্তা যে নেই তা প্রতিদিন ঘটনা-দুর্ঘটনায় প্রকাশ পায়''

সত্যি নারীর জন্য কোন দেশ নেই, নারীর কোন নিরাপত্তা নেই নারী শুধু নারী হওয়ার কারণে নিরাপত্তা নেই, স্বাধীনতা নেই